কুকুর দেখলেই জড়িয়ে ধরে দুধ পান করে শিশুটি! কারন জানলে চোখের জ্বল আটকাতে পারবেননা!

বেড়ায় ফখরা।

তিনি বলেন, দূরের রাস্তায় কুকুরের পিঠে চড়ে পাড়ি দেয় ফখরা। যেন ঘোড়সওয়ার। বন্ধুর মতো গড়াগড়ি, গলাগলি, কামড়া-কামড়ি ও কসরত দর্শকদের মু’গ্ধ করে। পাঁচ-দশ টাকা বকশিশ মেলে। তাতে কেনে কলা-পাউরুটি। এভাবেই কলা আর পাউরুটিতে দিন কাটে কুকুরবান্ধব ফখরার।

অনেক সময় খাবারের লোভে দল বাঁধা কুকুর পিছু নেয় ফখরার। শহরে নবাগত অতিথিদের সঙ্গে ভাব জমাতে সময় লাগে না তার। মহল্লায় নবাগত আর মনিব অনুগত দুই দল কু’কুরের আবহমান ঝগ’ড়ায় দাঁ’ত খেঁ’চিয়ে সেই বলে, কেন আইলি, প্র’ত্যুত্তরে ‘যাইস-খাইস’ বিবাদ মেটাতে তৎপর থাকে ফখরা।

মা জমেলা এখনো মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের পরি’চ্ছন্নতা কর্মী। তিনি বলেন, ছেলেকে অনেক বুঝিয়েছেন। লাভ হয়নি। কুকুর না দেখলে পা’গল হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। তাই ওকে ওর মতো করে চলতে ছেড়ে দিয়েছি।

মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের পরিবহন শ্রমিক নির্মল জানান, রাতে এক ডজন কুকুরের কড়া পাহারায় বাড়ি ফেরে ফখরা। মায়ের রান্না করা খাবার ভাগ করে খায় ওরা। কাকডাকা ভোরে দলবেঁ’ধে আসে বাসস্ট্যান্ডে। ফখরার তিন বোনের সবার বিয়ে হয়েছে।

ফখরার বড় বোন শাহেদার আক্ষেপ, কুকুরের সঙ্গে থাকা-খাওয়ায় প্রতিবেশীরা বির’ক্ত। ঘৃ’ণা করে। বকাঝকা করে। কেউ মেশে না তার সঙ্গে। এমনকি আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসে না। কিন্তু ফখরার ওসব তো’য়াক্কা নেই।

মা জমেলা বলেন, আবাল্য মেশামেশিতে অবুঝ প্রাণির সঙ্গে এখন তার নাড়ির বন্ধন। বোবা প্রাণি ওর আপনজন। ওদের ভাষা বোঝে। আকার ইঙ্গিতে ভাব বিনিময় করে। কুকুরের সঙ্গে খাবার না দিলে অঝোরে কাঁদে ফখরা। বেশি ক্ষেপলে হাঁড়িপাতিল ভাঙে। অস্বাভাবিক আচরণ করে। তখন ভ’য় লাগে।

গত ডিসেম্বরে মধুপুর পৌরশহরে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন নিয়ে ল’ঙ্কাকাণ্ড বাধায় ফখরা। প্রিয় কালু ও ভুলু নিধন হয় অভিযানে। এতে ক্ষে’পে যায় ফখরা। বাড়িতে অস্বাভাবিক কা’ন্না করে সে। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে মায়ের পরামর্শে একদল কুকুর নিয়ে পৌর ভবনে মেয়র মাসুদ পারভেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

মেয়রকে ফখরা জানায়, বন্ধু কালু আর ভুলু কখনো মানুষ কা’ম’ড়াতো না। তাহলে কেন তারা নিধন হলো। মেয়র আগে থেকেই ফখরাকে চেনেন। ফখরার ভাষ্য, মেয়র আমাকে খুব আদর করেন। আমাকে কথা দিয়েছেন আমার বন্ধুদের আর নিধন করা হবে না। এজন্য আমি খুবই খুশি। পৌর মেয়র মাসুদ পারভেজ ফখরার কুকুরপ্রীতি ও কুকুরের দু’ধ পানে বেড়ে ওঠার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পৃথিবীতে অনেক অবাক কা’ণ্ড ঘটে। এটি তার অন্যতম।

কুকুর নিধনের প্রতিবাদে ফখরার পৌর অফিসে আসার কথা স্বীকার করে মেয়র বলেন, কুকুরের সঙ্গে মানুষ হওয়া এ শিশুটির চাওয়া ছিল মানবিক। আসলে বিনা কারণে কুকুর নিধন না করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে হাইকোর্টেরও। ডিসেম্বরে নিধন অভিযানের পর মধুপুর পৌর শহরে বেওয়ারিশ কুকুর কমে যায়। তবে গ্রাম থেকে আসা নবাগত কুকুরের সঙ্গে ফখরার মিতালি গড়ে উঠে সমানতালে বলেন পৌর মেয়র।

পৌর শহরের পাইলট মার্কেটের দোকানি রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ফখরাকে ছোটকাল থেকেই কুকুরের সঙ্গে বড় হতে দেখেছি। কুকুরের দুধ পান করার দৃশ্য অনেকেই দেখেছেন। মধুপুর পাইলট মার্কেটের গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ভুট্টো সরকার বলেন, আজন্ম কুকুরের সঙ্গে মিতালির কারণে কখনো কখনো ওর মধ্যে অসহিষ্ণু ও ক্ষি’প্ত আচরণ সৃষ্টি হয়। রাগলে গলা দিয়ে অস্বাভাবিক স্বর বের হয়। সর্বক্ষণ জিহ্বা বের করে রাখে। হাঁটা ও পা ফেলার স্টাইল যেন কুকুরের অনুকরণ।

মা জমেলা বলেন, ওরে কুকুর সঙ্গ থেকে বিরত রাখা বিফলে গেছে। জরুরি চি’কিৎসা দরকার। আমরা খুবই গরিব। এক বেলা খাবারই জোটে না। আমার বুকের মানিকের চি’কিৎসা করাব কীভাবে। মানুষে-কুকুরে এই মিতালি বিস্ময়কর না হলেও স্বভাবে হিংস্র ও মানসিক বৈকল্যে আ’ক্রান্ত ফখরার সু’চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আবেদন জানিয়েছেন মা জমেলা।

x

You May Also Like

About the Author: admin

Hey iam Golam Rabbani