রক্ত দানের উপকারিতা | রক্ত দানের আগে আপনার যে বিষয়গুলো জানা অত্যান্ত জরুরি

রক্ত দানের উপকারিতা

রক্ত দানের উপকারিতা,রক্ত দেওয়ার উপকারিতা,রক্তদানের উপকারিতা,রক্ত দানের উপকারিতা এবং অপকারিতা,রক্ত দানের উপকারিতা কি,রক্ত দানের ফজিলত,রক্ত দান করার উপকারিতা,রক্তদানের উপকারিতা ও অপকারিতা,রক্ত দানের অপকারিতা,রক্তদান করার উপকারিতা,রক্ত দেয়ার উপকারিতা,রক্তদানের উপকারিতা জানলে চমকে উঠবেন

রক্ত দানের উপকারিতা

রক্তদান করা একটা মহৎ কাজ। আমরা অনেকে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছে এবং রক্তদান করে থাকে।সকলের রক্তদান করার আগে কিছু নিয়ম মানা দরকার। রক্ত তৈরি করা বা উৎপন্ন করা যায় না এজন্য রোগীদের রক্তদাতার ওপর নির্ভর করতে হয়। বিভিন্ন কারনে রক্ত লেগে থাকে। অনেকে এক্সিডেন্ট কিংবা রোগীর জন্য রক্ত লাগে। আবার অনেকের শূন্যতা কারণে রক্ত দিতে হয়।

আগের দিনে রক্ত কিনে দেয়া হতো, বর্তমানে কোন সমস্যা নেই। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা, এছাড়া বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা,তারা রক্ত দেওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত।

অনেকে রক্ত দেয়ার পর নানা সমস্যায় পড়ে। তাই রক্ত দেওয়ার আগে সকলের কিছু বিষয় জানা উচিৎ। আজকের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়বেন। আশা করি সকল রক্তদাতাদের উপকারে আসবে।

কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক,

রক্ত দানের উপকারিতা

রক্ত দানের উপকারিতা
রক্ত দানের উপকারিতা

রক্ত দেয়ার আগে যে বিষয়গুলো জানা অত্যান্ত দরকারঃ-

১) শারীরিক সুস্থতাঃ

রক্তদান করার আগে অবশ্যই আপনাকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। কোন রোগ যাতে আপনার শরীরে না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কোনো অসুখ যেমন:জ্বর, ঠান্ডা সহ এ ধরনের অসুখ থাকলে রক্ত না দেয়াই ভাল। যখন সুস্থ হবে, তখন দিতে পারবেন।
বড় ধরনের অসুস্থ হলে আপনি যদি এন্টিবায়োটিক খেয়ে থাকেন,তাহলে রক্ত দিতে পারবেন না
এছাড়াও আপনার রক্তে যদি এইচআইভি ভাইরাস,যক্ষা ম্যালেরিয়া থাকে তাহলে আপনি রক্ত দিতে পারবেন না। আপনি যদি কোভিড সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সুস্থ হওয়ার ১৪ দিন পরে রক্ত দিতে হবে।
এছাড়াও আপনার রক্ত যদি স্বাভাবিকভাবে জমাট না বাধতে পারে, তাহলে যে স্থান থেকে রক্ত নেয়া হবে সেখানে সুই দিলে, অনেক বেশি রক্তপাত হতে পারে।
আপনি যদি কোনো সার্জারি করে থাকেন তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে রক্ত দান করতে হবে। তাই রক্ত দেওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে সুস্থ সবল হতে হবে।

২) মানসিক সুস্থতাঃ-

রক্তদান করার আগে অবশ্যই আপনাকে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। রক্ত দেওয়ার আগে আপনাকে বিশ্রাম নিতে হবে,এবং পর্যাপ্ত মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।প্রথমবার আপনি যখন রক্ত দেবেন তখন প্রথমে একটু খারাপ লাগতেই পারে।রক্ত দেওয়ার আগের রাতে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমাবেন। যাতে পরবর্তী দিনে রক্ত দিয়ে মানসিকভাবে কোনো সমস্যা না হয়।পরিমিত পুস্টিকর খাবার খাবেন,এবং শরীরককে রক্ত দেয়ার জন্য প্রস্তুত করবেন।সর্বোচ্চ এক ব্যাগ রক্ত আপনি দিতে পারবেন,মস্তিষ্কে যেন চাপ না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রেখে রক্ত দিতে হবে। রক্তদান করা অনেক ভালো, রক্ত দিলে ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মতো কঠিন রোগ হয় না।

আরো পরুনঃ ই-সিম কি? ই-সিম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন | E-Sim Use

৩) রক্তদানের আগে স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানি পানঃ-


রক্তদানের আগে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে,এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। রক্তদান দান করার ২ ঘন্টা আগে প্রায় ৫০০-৬০০ মিলিলিটার পানি পান করা উচিৎ।মাংস,হাসের মাংস, পালং শাক,কিসমিস,রুটি, আয়রন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। আপনি বিশ্বাস এবং সংগঠনের সদস্য হয়ে থাকেন, তাহলে চর্বি জাতীয় তো খাবার কম খাবেন।কেন চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খেলে, রক্তের নমুনা পরিক্ষা করতে অসুবিধা হয়।

৪) বয়স,উচ্চতা,ওজন ও রক্তচাপঃ-

রক্ত দেওয়ার জন্য আপনার বয়স অবশ্য সর্বনিম্ন ১৮ হতে হবে।এবং আপনার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি হতে হবে, সেই সাথে ৫০ কেজি ওজন হতে হবে।
এছাড়া ও রক্তচাপ ৯০/৫০ এর উপর হতে হবে।


৫) খালি পেটে রক্তদান থেকে বিরত থাকাঃ-

খালি পেটে রক্তদান থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। খালি পেটে রক্তদান করলে অনেক সময় রক্তচাপে প্রভাব ফেলে। মাথাব্যথা,খিচুনি এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। এজন্য রক্তদানের আগে ভালভাবে খেয়ে নেয়া উচিৎ।

৬) ঢিলেঢালা পোশাক পরিধানঃ-

রক্তদানের আগে অবশ্যই ঢিলে ঢালা পোশাক পরিধান করা উচিৎ। ছেলেদের ক্ষেত্রে হাফ হাতা শার্ট উত্তম, এবং ফুল হাতা শার্ট হলেও যেন কনুই এর উপরে তোলা যায় এদিকে খেয়াল রাখবেন।

ঢিলেঢালা পোশাক পড়লে আপনি অসস্থি বোধ করবেন না। শরীরে কোনো ক্ষতি হবে না,কারন শরীরের উপর চাপ কম পড়বে।তাই রক্ত দেয়ার আগে ঢিলেঢালা পোশাক পড়ে রক্ত দান করা উচিৎ।

 

৭) রক্তের গ্রুপ নিয়ে ভুল ধারনাঃ-

অনেকে মনে করেন রক্তের গ্রুপ জানা না থাকলে, রক্ত দেওয়ার আগে সমস্যা হয়। রক্তদানের পুর্বে আপনার গ্রুপ না জানা থাকলেও চলবে। কারণ রক্তদানের আগে তারা গ্রুপ পরীক্ষা করে রক্ত নেবে। তাই এ বিষয়ে টেনশন করা উচিৎ নয়।

৮) কতবার রক্ত দেয়া যায়ঃ-

আপনি যদি শারীরিকভাবে একদম সুস্থ থাকেন, তাহলে ৯০ দিন বা ৩ মাস পর পর রক্তদান করতে পারবেন।একজন সুস্থ মানুষের দেহে ৪ থেকে ৫ লিটার রক্ত জমা থাকে। আমাদের শরীরের প্রতিনিয়ত রক্ত উৎপন্ন হচ্ছে।

৯) রক্ত নেয়ার যায়গায় ব্যান্ডেজঃ-

রক্ত দেওয়ার পর ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ লাগানো উচিৎ। কারণ এতে রক্ত বের হবার কোন সম্ভাবনা থাকবে না।তিন থেকে চার ঘণ্টা বেন্ডিজ রাখুন এবং তারপর ইচ্ছে হলে খুলে ফেলুন ।

রক্ত দেওয়ার আগে বিষয়গুলো জানা সকলের জন্য অত্যন্ত জরুরী এবং দরকারি।প্রথমবার রক্ত দিতে একটু ভয় লাগতে পারে। রক্ত দিতে দিতে ভয় ভেঙ্গে যাবে। সকলের উচিৎ রক্ত দান করা,এতে একটা রোগীর প্রান বাচলো এবং সে দান করবে তার জন্য ও ভাল। রক্তদাতা ভয়াবহ রোগ থেকে প্রতিরোধ হবে।

আজকে এপযন্ত, আবারো দেখা হবে নতুন কোনো আপডেট নিয়ে।
ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।💥❤️

x

You May Also Like

About the Author: admin

Hey iam Golam Rabbani